ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তাইশা তাসনিম (চাঁদনী): ইসলামি শরিয়তে রমজান মাসের ফরজ রোজার পর শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই রোজাগুলো পালন করা মুমিনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিয়ামত ও পুরস্কার। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে এই রোজার ফজিলত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।
এক বছরের রোজার সওয়াব শাওয়ালের ৬ রোজার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এটি পালন করলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:
“যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।” (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, “কেউ কোনো নেক আমল করলে সে তার দশগুণ সওয়াব পাবে” (সুরা আনআম: ১৬০)। এই গাণিতিক হিসেবে রমজানের ৩০টি রোজা ১০ গুণ হিসেবে ৩০০ দিনের সমান এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা ১০ গুণ হিসেবে ৬০ দিনের সমান। অর্থাৎ মোট ৩৬০ দিন বা পূর্ণ এক বছরের সওয়াব এর মাধ্যমে অর্জিত হয়।
রমজানের অসম্পূর্ণতা পূরণ মানুষ হিসেবে রমজানের ফরজ রোজা পালনে আমাদের নানা ভুলত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা থেকে যেতে পারে। শাওয়ালের এই নফল রোজাগুলো সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক। কেয়ামতের দিন যখন বান্দার ফরজ আমলের হিসাব নেওয়া হবে, তখন যদি ফরজে কোনো ঘাটতি থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা নফল আমল দিয়ে তা পূরণ করার নির্দেশ দেবেন। তাই শাওয়ালের রোজা রমজানের রোজার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ রমজানের রোজা রাখার তৌফিক পাওয়ার পর শাওয়ালের রোজা রাখা হলো আল্লাহর এক মহান শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা। সালাফদের মতে, কোনো নেক আমল কবুল হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হলো—সেই আমলের পর আরও একটি নেক আমল করার তৌফিক লাভ করা। শাওয়ালের রোজা প্রমাণ করে যে বান্দা কেবল রমজানের ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সে সারাবছরই আল্লাহর অনুগত থাকতে চায়।
রোজা রাখার নিয়ম শাওয়াল মাসের ২ তারিখ থেকে শুরু করে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত যেকোনো সময় এই ৬টি রোজা রাখা যায়। তবে ঈদের পর দ্রুত এই আমল শুরু করা উত্তম। এই রোজাগুলো একাদিক্রমে (টানা ৬ দিন) রাখা যেতে পারে, আবার ভেঙে ভেঙে পুরো মাসজুড়ে রাখলেও সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে মনে রাখতে হবে, আগে রমজানের কাজা রোজা (যদি থাকে) আদায় করে নেওয়া অধিকতর উত্তম, যদিও নফল রোজা আগে রাখলেও তা আদায় হয়ে যায়।
পরিশেষে বলা যায়, শাওয়াল মাসের ৬ রোজা রাখা ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব বা নফল। কিন্তু এর সওয়াব ও বরকত এতটাই বেশি যে কোনো মুমিনের উচিত নয় এই সুযোগ হাতছাড়া করা। অল্প পরিশ্রমে সারাবছর রোজা রাখার এই বিশাল পুরস্কার আমাদের আত্মিক উন্নতি ও পরকালীন মুক্তির পথ প্রশস্ত করে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহভাবে এই রোজাগুলো পালন করার তৌফিক দান করুন।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ