কমে আসছে অপরিশোধিত তেলের মজুত, চলবে কত দিন

কমে আসছে অপরিশোধিত তেলের মজুত, চলবে কত দিন

দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) তীব্র অপরিশোধিত তেল সংকটে পড়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র ৪০ হাজার টন ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আগামী ১০ থেকে ১২ দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। দৈনিক সাড়ে ৪ হাজার টন পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ৩ হাজার ৮০০ টন করে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে। পরিশোধিত এই জ্বালানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানো হয়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশেও। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশসহ পাঁচটি ‘বন্ধুরাষ্ট্রের’ জাহাজ চলাচলে অভয় দিয়েছে, তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

ইআরএল সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১ অথবা ২ মে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পারে। ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের একটি বন্দর থেকে জাহাজটিতে তেল লোড করার কথা রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে আসতে পারে। এর আগে, ১ লাখ টন তেল নিয়ে ‘এমটি নর্ডিক পলাঙ’ নামের একটি মাদার ভেসেল গত ২ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দর থেকে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনো সেখানেই নোঙর করে আছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী ধান্না বন্দর থেকে ২১ মার্চ অন্য একটি জাহাজে ১ লাখ টন তেল আসার কথা থাকলেও সেই শিডিউল বাতিল করা হয়েছে।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রল, ফার্নেস অয়েল, এলপিজি, জেট ফুয়েল ও বিটুমিন উৎপাদন করা হয়। তবে এখানে অকটেন উৎপাদিত হয় না।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিং) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ১ লাখ টন তেল রিসিভ করা হয়েছে যা বর্তমানে পরিশোধন করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আমদানিকৃত তেলের জাহাজগুলো আটকে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেগুলো দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে।

প্রতিষ্ঠানের অন্য এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মজুত থাকা ৪০ হাজার টন তেল শেষ হয়ে গেলে ১০-১২ দিন পর দেশের একমাত্র এই পরিশোধনাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়াসহ বিকল্প উৎস থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল কেনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশের পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন