গোপালগঞ্জ-৩ আসনের জনগণ এস এম জিলানীকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের জনগণ এস এম জিলানীকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়

আরিফ হাজরা, কোটালীপাড়া প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতা এস এম জিলানীকে আগামী মন্ত্রিসভায় দেখতে চায় এলাকার সাধারণ মানুষ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আসন ও আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর থেকেই এ দাবি জোরালো হচ্ছে।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এস এম জিলানী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “এখন থেকে আমার কাছে সবাই সমান। আমি সব মানুষের এমপি এবং সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে।” তাঁর এই অহিংস ও উদার বক্তব্যের পর কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

কোটালীপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অলিয়ার হাওলাদার বলেন, “এস এম জিলানী জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন, যা ভোটারদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। এলাকার উন্নয়নের ধারা সচল রাখতে এবং শান্তি বজায় রাখতে আমরা তাঁকে মন্ত্রিসভায় দেখার প্রত্যাশা করছি।” উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মান্নান শেখও একই দাবি জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে জয়ী হওয়ার এই কৃতিত্বের মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।

ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে ভট্রের বাগান গণেশ পাগল মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ লাল দাস বলেন, “নির্বাচিত হওয়ার পরেই তিনি মন্দিরে এসে শান্তি-সম্প্রীতির কথা বলেছেন। আমরা চাই তিনি মন্ত্রী হয়ে পুনরায় আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।” কলাবাড়ী ইউনিয়নের সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধা করুণা বাড়ৈ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “নির্বাচনের আগে সে আমার দরজায় এসে আমাকে ‘মা’ বলে ভোট চেয়েছিল। আমি তাকে ভোট দিয়েছি, এখন তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”

নিজের এই ঐতিহাসিক জয় ও জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে এস এম জিলানী বলেন, “আমি রাস্তার বড় বড় মিছিলের চেয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে যাওয়াকে গুরুত্ব দিয়েছি। তাঁরা আমাকে ঘরের মানুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমি আমৃত্যু এই জনপদের শান্তি ও নিরাপত্তায় কাজ করে যাব।”

মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে জেল-জুলুম সহ্য করেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান আমাকে মনোনয়ন দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, আমি তাঁকে জয় উপহার দিতে পেরেছি। আমার বিষয়ে দল ও দলের নেতা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমি তা মাথা পেতে নেব।”

এ.এইচ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন