বাউফলে সেতুমন্ত্রীকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ণ
বাউফলে সেতুমন্ত্রীকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা

ইব্রাহিম ফরাজী, বিশেষ প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলের বগা এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই পরিদর্শনে গিয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শনের একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে মন্ত্রী প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি সংযোগ সভা না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বাউফলের বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে লোহালিয়া নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে ফেরিতে নদী পার হন। ওই এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের আমন্ত্রণে তিনি এই পরিদর্শনে আসেন। মন্ত্রী সভাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয় বিএনপির শত শত নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন।

একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনার মুখে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে, যার ফলে মন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত এই অবরুদ্ধ ও থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে থাকার পর, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সেতুমন্ত্রী পুনরায় একই ফেরিতে চড়ে নদীর পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান এবং গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালী জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। এছাড়া মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্থানীয় এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। স্থানীয়দের দাবি, জামায়াত সমর্থিত এমপির আয়োজিত সভায় সেতুমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও একক ক্রেডিট নেওয়া ঠেকাতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এ সময় বিএনপির সাবেক এমপি প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ দাবি করেন, “সভাস্থলের মূল ব্যানারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ছবি বা যথাযথ প্রটোকল না থাকায় সাধারণ নেতাকর্মী ও জনতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই কারণেই তাঁরা সেখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।” ঘটনার পর অবরুদ্ধ হওয়া সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

উল্লেখ্য, বাউফলের লোহালিয়া নদীর ওপর বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আগের সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। পরে জাতীয় সংসদে সেতুটির জনগুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রীকে বাউফল সফরের আমন্ত্রণ জানান এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তবে আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক অনৈক্য ও উত্তেজনার পর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও অর্থায়ন নিয়ে বাউফলবাসীর মনে নতুন করে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন