ঝাঁপা কমিউনিটি ক্লিনিক ওষুধশূন্য: ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ণ
ঝাঁপা কমিউনিটি ক্লিনিক ওষুধশূন্য: ভোগান্তিতে রোগীরা

আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৯ নম্বর ঝাঁপা ইউনিয়নের ‘ঝাঁপা কমিউনিটি ক্লিনিকে’ গত প্রায় ৯ মাস ধরে সাধারণ ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো মৌসুমি রোগের প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম চিকিৎসা সংকটে ও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক রোগীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র, অসচ্ছল ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস ধরে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিদিন শত শত রোগী খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁদের বাড়তি যাতায়াত ও ওষুধি খরচে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা বেসরকারি ক্লিনিকের দিকে ছুটতে হচ্ছে।

ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে ঠান্ডা-জ্বর কিংবা সামান্য কাটাছেঁড়া হলে ক্লিনিকে গেলে ফ্রিতে ওষুধ পেতাম। এখন সর্দি-কাশির একটা সাধারণ ট্যাবলেটও ক্লিনিকে দেয় না। ডাক্তারবাবু শুধু একটি কাগজের টুকরোয় (প্রেসক্রিপশন) ওষুধের নাম লিখে বাইরে থেকে কিনে খেতে বলেন। আমাদের মতো গরিব মানুষ বাইরে থেকে দামী ওষুধ কিনবে কীভাবে?”

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নিয়মিত সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় এবং তদারকির অভাবে ক্লিনিকটির দৈনিক সেবা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। এতে সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—তৃণমূল তথা গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা—মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করে গ্রামীণ এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি পুনরায় সচল ও কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্লিনিকের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী জানান, “ওষুধের চাহিদাপত্র বহু আগেই জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেন্ট্রাল ড্রাগ স্টোর থেকে সরবরাহ না পাওয়ায় আমরা রোগীদের ওষুধ দিতে পারছি না।” এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই সংকট দূর করা না হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও তীব্র সংকটে পড়বে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন