ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সুন্দরগঞ্জ, বিদ্যুৎহীন ৮০ হাজার পরিবার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ণ
ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সুন্দরগঞ্জ, বিদ্যুৎহীন ৮০ হাজার পরিবার

হাবিবুল্লাহ্ সরকার, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলি জমি। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ। এতে উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক সম্পূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়েছেন। 

গত রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। রাতভর ঝড়ের আতঙ্কে নির্ঘুম সময় কাটান স্থানীয় বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বেলকা, দহবন্দ এবং শান্তিরাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। ঝড়ে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ বছরের পুরোনো একটি বিশাল বটগাছ উপড়ে বিদ্যালয় ভবনের ওপর পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষসহ অন্তত চারটি শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পৌরশহরের মীরগঞ্জ বাজারে একটি বড় বটগাছ হেলে পড়ে কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার জানান, তাঁর ইউনিয়নে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ থেকে ৭টি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। বেলকা ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঝড়ের পর বাহিরগোলা মোড় থেকে বাইপাস সড়ক, হাসপাতাল রোড, গাজিরকুড়া, আলুটারী, উত্তর ধুমাইটারি, দক্ষিণ ধুমাইটারি, জরমনদী ও গোপালচরণসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বেলকা ইউনিয়নের চাঁন্দের মোড়েও একটি বড় গাছ সড়কের ওপর ভেঙে পড়ায় ওই এলাকার যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ঝড়ে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ফসলি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে অনেক কৃষকের পাকা ধানক্ষেত ও পানের বরজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আব্দুল বারী জানান, ঝড়ে হাসপাতাল এলাকা ও উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং আরও ৪টি খুঁটি হেলে পড়েছে। এছাড়া ২০ থেকে ৩০টি স্থানে উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে ও বহু মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে মেইন ট্রান্সফরমার লাইন চালু করা সম্ভব হয়নি এবং উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, "ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ৪৫ জন কর্মী কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে দ্রুত সড়ক থেকে গাছ ও খুঁটি অপসারণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর কাজ করছেন।"

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, "এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে সরকারি অনুদান বা টিন বিতরণ করা হবে।"

এদিকে ঝড়ের পর থেকে দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। বিশেষত বেলকা ইউনিয়নসহ প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ বিদ্যুৎহীনতায় অসহনীয় গরম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্মে মারাত্মক বিঘ্নের শিকার হচ্ছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন