শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিবেদক: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বর্বরোচিতভাবে নিহত সুমন ও ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে নিহত সুমনের স্ত্রী রিমু আক্তার ও ইয়াছিনের স্ত্রী সখী বেগম কোলজোড়া শিশু সন্তানদের নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের আহাজারিতে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেও জল চলে আসে। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, “সুমন ও ইয়াছিনকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” এ সময় তাঁরা হত্যাকাণ্ডের মূল দুই মাস্টারমাইন্ড ও অভিযুক্ত রাহাদ ও রাব্বিসহ তাদের প্রধান সহযোগী আওলাদ ও জাহিদুলের দ্রুত গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আদালতের মাধ্যমে ফাঁসির জোর দাবি জানান। একই সাথে স্বজনরা নিহত ইয়াছিনের দুই অবুঝ ও শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের ভরণ-পোষণের জন্য সরকারি ও মানবিক সহযোগিতার আকুতি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও নিহতের স্বজনরা বলেন, “দিনের আলোয় জনসম্মুখে সংঘটিত এই নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের পরও এখনও পর্যন্ত মূল আসামিদের সবাইকে পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে আসামিরা কীভাবে পালিয়ে বেড়ায়?” দ্রুত সময়ের মধ্যে সব পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুততম সময়ে ফাঁসি নিশ্চিত করা না হলে আগামীতে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার মোকামতলা বন্দরসহ উত্তরবঙ্গ অচল করে দেওয়ার মতো আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তাঁরা কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
হাইওয়ে ও থানা পুলিশ জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীকে সান্ত্বনা দেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। এরপর সড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ইতোমধ্যে এজাহারনামীয় কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি প্রধান অভিযুক্তদের অবস্থান প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম জেলাজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।”
এ.আই.এল/সকালবেলা