ছাতকে গণধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ণ
ছাতকে গণধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বহুল আলোচিত তরুণী গণধর্ষণ মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

সাজা প্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে মতিউর রহমান মতিন, একই গ্রামের খোয়াজ আলীর ছেলে দিলদার হোসেন এবং কামারগাঁও গ্রামের হাবিবুর ইসলামের ছেলে বিল্লাল হোসেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আব্দুস সোবহান নামের অন্য এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে এক তরুণী তাঁর নানাবাড়িতে যাওয়ার পথে ছাতকের হাসামপুর এলাকার দুই বখাটে যুবক মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন তাঁকে পথরোধ করে জোরপূর্বক অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। পরে উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের একটি আত্মীয়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে ওই তরুণীকে তিন দিন ধরে পালাক্রমে পৈশাচিক ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধর্ষকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিল্লাল হোসেন নামের আরেক অভিযুক্ত ভুক্তভোগীকে অন্য গ্রামে নিয়ে গিয়ে পুনরায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা ধর্ষক চক্রের সদস্যদের হাতেনাতে আটক করে ছাতক থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর ভাই বাদী হয়ে ছাতক থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

আদালতের রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় (অপহরণ) মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই আইনের ৯(৩) ধারায় (দলবদ্ধ ধর্ষণ) ওই দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকেও ধর্ষণের ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় প্রধান দুই আসামি মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামি বিল্লাল হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমান। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ঘটনার সব ধরনের অকাট্য মেডিকেল প্রমাণ ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” ভুক্তভোগী পরিবার রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার ও সাজা কার্যকরের আকুতি জানিয়েছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন