স্টাফ রিপোর্টার: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাশুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে চুরি, ভাঙচুর ও মারামারির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক ও মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ মোহাম্মদ জুয়েল বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামলার অভিযোগকারী সৈয়দ মোহাম্মদ জুয়েল এবং প্রধান অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন আহমেদ—উভয়েই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। বর্তমানে তাদের মধ্যে একজন দেশের বাইরে বা গোপনে পলাতক রয়েছেন এবং অপরজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় অবস্থিত ‘শাহজালাল ফিলিং স্টেশনে’ একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ফিলিং স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা ও অফিস কক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নেওয়া হয় বলে বাদী সৈয়দ মোহাম্মদ জুয়েল অভিযোগ করেন। পাশাপাশি হামলাকারীরা তাকে ও তাঁর কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১১ মে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বাঘাশুরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযোগটি প্রাথমিক সত্যতা সাপেক্ষে এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) হিসেবে গ্রহণ করে।
মামলার বাদী সৈয়দ মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, “শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ পূর্বের একাধিক মামলা রয়েছে। সে ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আমার অনেক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার না করলে এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং অশান্তি বাড়বে।”
শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম মামলা গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ফিলিং স্টেশনে হামলা ও লুটের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি নিয়মিত ধারা অনুযায়ী নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে, মামলার বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর এক ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী দাবি করেন, “তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মামলার কারণে এলাকা ছেড়েছেন। ব্যবসায়িক বিরোধ বা অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এই মামলা সাজানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
এ.আই.এল/সকালবেলা