বগুড়ায় ছাগলের ঘাস খাওয়া নিয়ে বিরোধে হত্যা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় ছাগলের ঘাস খাওয়া নিয়ে বিরোধে হত্যা

ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাগলে ঘাস খাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মানিক চৌধুরী (৫০) নামে এক মাংস ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের ঝাজিড়া বাঙালি বাজার এলাকায় এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক চৌধুরী ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কসাই (মাংস ব্যবসায়ী) ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে একটি ছাগলের অন্যের জমিতে ঢুকে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথাকাটাকাটি ও গালিগালাজ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন মানিক চৌধুরীকে লক্ষ্য করে লাঠি ও ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় এবং বুকে সজোরে আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা চিৎকার করে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মানিককে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তুচ্ছ ঘটনায় এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঝাজিড়া বাঙালি বাজার ও গুনাহার ইউনিয়ন জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের একটি বড় দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ছাগলে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পেয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের হাতেনাতে শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন