আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভূমি ভবনের তৃতীয় তলায় উদ্বোধনী পর্ব শেষ করে তিনি ভবনের নিচতলায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র’-এ যান। আকস্মিকভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছে পেয়ে সেন্টারের ছোট্ট শিশুরা আনন্দে মেতে ওঠে এবং খুশিতে তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরা এতটাই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল যে, তারা চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে ধরে তাদের আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ করছিল। প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের মাঝে এসে বেশ কিছুটা সময় অন্যরকম এক আবহে কাটিয়েছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী সেখানে শিশুদের নিয়ে কেক কাটার পাশাপাশি নিজ হাতে তাদের চকলেট, টফি ও ললিপপ দেন। সেই সঙ্গে সবার হাতে তুলে দেন আকর্ষণীয় গিফট ব্যাগ। শিশুদের চকলেট বিলানোর সময় প্রধানমন্ত্রীকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলতে শোনা যায়, আর কেউ কি বাকি আছ?’
এজেডএম জাহিদ হোসেন সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে আরও বলেন, ‘সেন্টারে আগে থেকেই একটি কেক রাখা ছিল। প্রধানমন্ত্রী সেটি দেখে শিশুদের জিজ্ঞেস করেন, আজকে কার জন্মদিন বলো তো? তখন একেক জন শিশু উৎসাহ নিয়ে বলে ওঠে—আংকেল আমার, আংকেল আমার। তখন প্রধানমন্ত্রী পরম মমতায় বলেন, আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো আমরা একসঙ্গে কেক কাটি। এরপর তিনি শিশুদের হাত নিজের হাতের ওপর রেখে কেকটি কাটেন। এ সময় শিশুরা হাততালি দিয়ে আনন্দে সমস্বরে গেয়ে ওঠে—হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি হ্যাপি বার্থ ডে।’
প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছে পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে আরিবা নামের এক খুদে শিশু। সে এক গণমাধ্যমকে জানায়, ‘প্রধানমন্ত্রী আংকেলকে দেখে আমি যে কী খুশি হয়েছি তা বলতে পারছি না। আংকেলের সঙ্গে মজা করে কেক খেয়েছি। আংকেলও কেক খেয়েছেন। কী মজা, কী মজা! আংকেল খুব ভালো, খুব সুইট।’
পরিদর্শনকালে ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের কীভাবে যত্ন নেওয়া হয় তা বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুদের নিয়মিত খাদ্য তালিকায় কী কী পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়, সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নেন।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী জানান, কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের সুরক্ষায় মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এই শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশে এই ধরনের ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার সচল রয়েছে। ৪ বছর থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা এই কেন্দ্রগুলোতে দৈনিক সাড়ে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিরাপদ সেবা পেয়ে থাকে। তেজগাঁওয়ের এই কেন্দ্রটিতে মোট ৬০ জন শিশু রয়েছে, যার মধ্যে আজ ৫৫ জন উপস্থিত ছিল।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে ১৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার পর প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে শিশুদের কাছ থেকে বিদায় নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ছাড়াও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
জান্নাত সকালাবেলা