কোরআন মুমিনের আলোকবর্তিকা

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
কোরআন মুমিনের আলোকবর্তিকা

ইসলামী জীবন ডেস্ক: মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্য যুগে যুগে আম্বিয়া কিরামের ওপর আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আম্বিয়ার ৪৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে প্রদত্ত কিতাবের মহিমা তুলে ধরেছেন, যা বর্তমান সময়ের মুমিনদের জন্যও এক বড় শিক্ষার উৎস।

সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৪৮

"আর আমি তো মুসা ও হারুনকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব দিয়েছিলাম এবং মুত্তাকিদের জন্য দিয়েছিলাম জ্যোতি ও উপদেশ।"

পবিত্র কোরআনের এই আয়াতে তাওরাতের তিনটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে: ১. ফুরকান: যা হক ও বাতিল এবং হালাল ও হারামের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী। ২. জ্যোতি (আলোকবর্তিকা): যা মানুষকে সত্য ও সরল পথ দেখায়। ৩. উপদেশ: যা মানবজাতিকে তাদের বিস্মৃত শিক্ষা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়।

যদিও আসমানি কিতাব সমগ্র মানবজাতির হিদায়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়, তবে আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বিশেষভাবে ‘মুত্তাকি’ বা আল্লাহভীরুদের কথা উল্লেখ করেছেন। এর কারণ হলো, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই এবং যারা কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না, তারা এর প্রকৃত নূর বা আলো গ্রহণ করতে পারে না। কেবল মুত্তাকিরাই কিতাবের উপদেশ থেকে উপকৃত হয়ে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করে।

  • সঠিক পথ প্রদর্শন: আসমানি কিতাব মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করে ঈমান, জ্ঞান ও নৈতিকতার আলো ছড়ায়।

  • তাকওয়ার গুরুত্ব: হিদায়াত লাভের প্রধান শর্ত হলো তাকওয়া। তাকওয়া মানুষের অন্তরকে সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে।

  • নবীগণের প্রতি বিশ্বাস: মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-এর ওপর নাজিলকৃত কিতাবের আলোচনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সকল নবী ও আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাস রাখা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

  • চিন্তা ও গবেষণা: আসমানি কিতাব থেকে উপদেশ পাওয়ার জন্য তা নিয়ে গভীর চিন্তা ও গবেষণা করা আবশ্যক।

পরিশেষে, আসমানি কিতাব কেবল পাঠ করার জন্য নয়, বরং এটি মানুষের জন্য এক শাশ্বত আলোকবর্তিকা। যারা এই আলোর অনুসরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তারাই সফলকাম হবে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন