ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌর সদরের হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখন নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ঐতিহাসিক কেন্দ্রটি চিকিৎসক সংকট, জরাজীর্ণ ভবন আর ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়ায় ৩০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। কোনো এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ৪-৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোড়াঘাট পৌরসভার এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বর্তমানে যেন একটি পরিত্যক্ত আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা আর ভেতরে কুকুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণ দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি চিকিৎসা কেন্দ্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এখানে অন্তত একজন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বছরের পর বছর কোনো চিকিৎসকের দেখা নেই। বর্তমানে জরাজীর্ণ একটি অন্ধকার কক্ষে মাত্র একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন্দ্রটি। আধুনিক কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম বা পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ না থাকায় সাধারণ সর্দি-জ্বর ছাড়া অন্য কোনো সেবা পাওয়া এখানে অসম্ভব।
বিগত সরকারের আমলে অনেক জনপ্রতিনিধি এই কেন্দ্রটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে নিম্নআয়ের ও অসহায় মানুষরা সামান্য চিকিৎসার জন্য যাতায়াত খরচ ও সময়ের অপচয় করে দূরবর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এলাকার সচেতন মহলের দাবি, এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করে এখানে একটি আধুনিক ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের নজরদারির অভাবকেই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন তারা।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএসও) ডা. মোঃ মেহেদী হাসান সোলাইমান হোসেন জানান:
"আমরা জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়টি অবগত আছি। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ