ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীতে বিষ প্রয়োগ ও ইলেকট্রিক শক ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাছ নিধনের ভয়াবহ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একশ্রেণির অসাধু চক্রের এমন কর্মকাণ্ডে নদীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় সাধারণ জেলেদের জীবিকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুমতীর বিভিন্ন পয়েন্টে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো এলাকাভিত্তিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। দিনের বেলা সাধারণ ছদ্মবেশে থাকলেও সন্ধ্যার পর শুরু হয় তাদের তাণ্ডব। অসাধু এই ব্যক্তিরা কৃষি কাজের অজুহাতে স্থানীয় বাজার থেকে বিষ সংগ্রহ করে নদীতে মিশিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া শক্তিশালী ব্যাটারি ও তারের মাধ্যমে নদীতে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নিধন করা হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, বিষ ও বিদ্যুতের ব্যবহার কেবল মাছ নয়, বরং নদীর অণুজীব, পোকা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে।
ভুক্তভোগী জেলেরা অভিযোগ করে বলেন:
"আগে নদীতে জাল ফেললে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন বিষ আর কারেন্টের শকে সব মাছ মরে ভেসে উঠছে অথবা পচে যাচ্ছে। আমরা যারা প্রকৃত জেলে, তারা এখন নদীতে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরছি। আমাদের সংসার চালানো এখন দায় হয়ে পড়েছে।"
দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো অভিযান বা নজরদারি নেই বলে দাবি স্থানীয়দের। নিয়মিত টহল না থাকায় চক্রগুলো দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
মধুমতী নদীর অস্তিত্ব রক্ষা এবং কয়েক হাজার জেলে পরিবারের অন্নসংস্থানের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে মধুমতী নদী অচিরেই মৎস্যশূন্য হয়ে পড়বে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ