ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৩৯ দিনের টানা আগ্রাসনের জবাবে রণকৌশল হিসেবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই ‘ট্রাম্পকার্ড’ ব্যবহারের ফলে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তীব্র তেল ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল ও খাদ্য নিরাপত্তাকেও চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন হওয়া সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে যায়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা আধুনিক কৃষিব্যবস্থার জন্য বড় আঘাত। নাইট্রোজেন সার উৎপাদনের প্রধান উপাদান প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম যুদ্ধের কারণে প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার মতো বড় উৎপাদকরা সার ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল রপ্তানি স্থগিত করায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে চাল, গম ও ভুট্টার মতো প্রধান খাদ্যশস্যের ফলন ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ভুট্টার উৎপাদন কমলে পশুখাদ্যের দাম বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে গরুর মাংস, মুরগি ও দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কোমল পানীয়ের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি ও প্যাকেজিং খরচের মতো পরোক্ষ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আগামী ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে আকাশচুম্বী হতে পারে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর এই প্রভাব হবে ভয়াবহ। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আশঙ্কা করছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোতেও উৎপাদন হ্রাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই সংকট ভৌগোলিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ মনে হলেও, বিশ্ববাজারের আন্তঃনির্ভরশীলতার কারণে যুদ্ধের এই চরম মূল্য প্রত্যেকটি মানুষকে দিতে হবে। এনডিটিভি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ