ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: পর্যটন নগরী কক্সবাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা মাছের বাজারে। সাগরে মাছ ধরার ট্রলারে ডিজেল সংকটের অজুহাতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে মাছের দাম। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের বাজার।
বাজারে বর্তমানে পাঙ্গাশ ছাড়া ৪০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া দুষ্কর। ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের সংকটে গভীর সমুদ্রে ট্রলার যেতে পারছে না, ফলে সরবরাহ কমেছে।
সাগরের মাছ: কোরাল ১০০০-১৩০০ টাকা, রূপচাঁদা ১২০০-১৪০০ টাকা, সুরমা ৭০০-৮০০ টাকা, তাইল্যা ৬০০-৭০০ টাকা এবং বাগদা চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা।
মিঠা পানির মাছ: শিং মাছ ৫০০-৫৫০ টাকা, রুই ৩৪০-৩৬০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কানাই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সালাম জানান, রোজার আগের চেয়ে অনেক মাছের দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জেলা বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন:
"ডিজেল সংকটের কারণে কয়েক হাজার জেলে ও ট্রলার অলস বসে আছে। যেখানে দৈনিক ৫০টি বোট সাগরে যেত, সেখানে এখন মাত্র ৫টি যাচ্ছে। সরবরাহ বাড়াতে তেলের সংকট দ্রুত মেটানো জরুরি।"
ঈদের পর চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। বাজারে ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না।
মূল্য তালিকা: ঢ্যাঁড়স ৮০-১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং নতুন কাঁকরোল ১৬০-১৮০ টাকা। তবে শসা (৪০-৫০ টাকা), টমেটো (২০-৩০ টাকা) ও পেঁয়াজ (৪০-৫০ টাকা) কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগির দাম আকাশচুম্বী (৭০০-৭৫০ টাকা)। গরুর মাংস হাড়সহ ৮৫০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা এনজিও কর্মকর্তা আহসানুল হক সাব্বির বলেন, "সবসময় কোনো না কোনো পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমত।"
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা জানান:
"চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। জেলেরা গভীর সাগরে যেতে পারছেন না বলে বড় মাছ মিলছে না। এছাড়া আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে, যা বাজারকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।"
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ