ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জলিলুর রহমান জনি: দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাংলা নববর্ষ। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার তাঁতপল্লীগুলোতে বইছে ব্যস্ততার হাওয়া।
উপজেলার চান্দাইকোনা, ধানগড়া ও রায়গঞ্জ পৌরসভার লক্ষীকোলা এলাকায় গামছা তৈরির ধুম পড়েছে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত তাঁতের খটখট শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে এই জনপদ।
সরেজমিনে বিভিন্ন তাঁতঘর ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকদের দম ফেলার সময় নেই। কেউ ড্রামে সুতা রং করছেন, কেউ সুতা শুকিয়ে চরকায় তুলছেন, আবার কেউ নিপুণ হাতে তাঁত চালিয়ে তৈরি করছেন বাহারি রঙের গামছা। বৈশাখী মেলা ও উৎসবের বাজার ধরতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এই কর্মযজ্ঞ।
রায়গঞ্জ পৌরসভার লক্ষীকোলা এলাকার তাঁতশ্রমিক হযরত আলী বলেন:
“নববর্ষ উপলক্ষে গামছার চাহিদা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। সময়মতো গামছা সরবরাহ করতে এখন দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। না চললে অর্ডার হাতছাড়া হয়ে যাবে।”
তাঁত মালিক আবির জানান, প্রতি বছরই বৈশাখ উপলক্ষে গামছার চাহিদা বাড়ে। তবে বর্তমান বাজারে সুতা ও রঙের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কাঁচামালের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় গামছার দাম না বাড়ায় লাভের অঙ্ক নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকার তাঁত মালিক ইকবাল কবির বলেন, “নববর্ষ আমাদের জন্য আয়ের বড় একটি মৌসুম। বাজার বেশ চাঙ্গা, বিক্রি ভালো হওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।”
তাঁতিদের তৈরি এসব গামছা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্প আজ নানা সংকটে জর্জরিত। কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতি ও পুঁজির অভাব অনেককে এই পেশা থেকে বিমুখ করছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং কাঁচামালের বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নববর্ষকে ঘিরে রায়গঞ্জের তাঁতপল্লীর এই ব্যস্ততা কেবল গ্রামীণ অর্থনীতিকেই সচল রাখছে না, বরং বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও লালন করছে। যথাযথ সরকারি সহায়তা পেলে এই অঞ্চলের গামছা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি সম্ভব বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ