মসজিদুল আকসায় ইসরায়েলি মন্ত্রীর উস্কানিমূলক প্রবেশ: আরব বিশ্বে নিন্দার ঝড়

মসজিদুল আকসায় ইসরায়েলি মন্ত্রীর উস্কানিমূলক প্রবেশ: আরব বিশ্বে নিন্দার ঝড়

মসজিদুল আকসায় ইসরায়েলি মন্ত্রীর ‘উস্কানিমূলক’ প্রবেশ: আরব বিশ্বে নিন্দার ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অধিকৃত জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের প্রবেশকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে আরব দেশগুলো। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং বিশ্ব মুসলিমের বিরুদ্ধে সরাসরি উস্কানি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে কট্টরপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গ্যভির কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ‘মরক্কো গেট’ দিয়ে পবিত্র আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে উস্কানিমূলক পরিদর্শন চালান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ’ এবং দেশটিতে জারি করা ‘জরুরি অবস্থা’র অজুহাতে সাধারণ মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলেও মন্ত্রীর এমন প্রবেশকে ‘ধৃষ্টতা’ হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনিরা।

  • কাতার: কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, "এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত। জেরুজালেমের পবিত্র স্থানের মর্যাদা পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা উচিত।" কাতার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলি এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • জর্ডান: জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য উস্কানি’ এবং আল-আকসার পবিত্রতার চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, ইসরায়েল এই পবিত্র স্থানটিকে ইহুদি ও মুসলমানদের মধ্যে সময় ও স্থান ভেদে ভাগ করার (Division of time and space) ষড়যন্ত্র করছে।

  • ফিলিস্তিন: ফিলিস্তিনের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় একে একটি ‘লজ্জাজনক হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে। তারা জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ টানা ৩৮ দিন ধরে সাধারণ মুসল্লিদের আল-আকসা ও খ্রিস্টানদের গির্জায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, অথচ উগ্রবাদী মন্ত্রীদের সেখানে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

  • হামাস: ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, বেন-গ্যভিরের এই পদক্ষেপ আল-আকসা প্রাঙ্গণকে সম্পূর্ণভাবে ‘ইহুদিীকরণ’ করার এবং এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বিপজ্জনক সংকেত। হামাস নেতা আবদুর রহমান শাদিদ বলেন, "এটি পবিত্রতম স্থানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও পরিকল্পিত দখলদারি নীতি।"

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে জেরুজালেমে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। টানা ৩৮ দিন ধরে আল-আকসা বন্ধ রাখা হলেও কট্টরপন্থী ইসরায়েলি নেতাদের এই ধরনের সফর ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ, টিআরটি উর্দু 

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন