জামালপুরে ট্রলি চালক হত্যা মামলায় পাঁচ কিশোরের কারাদণ্ড

জামালপুরে ট্রলি চালক হত্যা মামলায় পাঁচ কিশোরের কারাদণ্ড

মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে বহুল আলোচিত ফারুক হোসেন (৩৮) হত্যা মামলায় পাঁচ কিশোরকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ইসলামপুর উপজেলার মৌজা আতা গ্রামের এস এম জামালে মো. রত্নো (১৬), শিং ভাঙ্গা গ্রামের মো. রোকুনুজ্জামান ফকির (১৬), চর গাঁওকুড়া গ্রামের মো. মিজানুর রহমান (১৪), ডেঙ্গার গর গ্রামের কে এম সামিউজ্জামান (১৭) এবং চর গাঁওকুড়া গ্রামের মো. উমর ফারুক (১৫)। উল্লেখ্য, ঘটনার সময় তাদের বয়স বিবেচনায় শিশু আইনে এই সাজা প্রদান করা হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, নিহত ফারুক হোসেন ইসলামপুর উপজেলার ভেঙ্গুরা এলাকার ইমাল উদ্দিন শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ট্রলি চালক ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত কিশোররা ফারুকের বন্ধু ছিল। তারা ফারুকের মোটরসাইকেল চালাত এবং মাঝেমধ্যে তার কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিত। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ফারুক ওই কিশোরদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতেন। একপর্যায়ে কিশোররা একে অপরের ওপর নির্যাতনের কথা জানতে পেরে ফারুককে হত্যার পরিকল্পনা করে।

২০১৫ সালের ২৫ মে রাতে তারা ফারুককে মোবাইল ফোনে ডেকে উপজেলার চর গাঁওকুড়া এলাকার একটি কাঠের বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফারুককে হত্যা করে তারা লাশ ফেলে রেখে যায়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা ইমাল উদ্দিন বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আসামিদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন