নাটোরে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু: বাড়ছে উদ্বেগ

নাটোরে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু: বাড়ছে উদ্বেগ

মোল্লা মোঃ আরিফুল ইসলাম, নাটোর : নাটোরে হামের উপসর্গ নিয়ে সাড়ে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় জেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স ৯ মাসের কম হওয়ায় তারা এখনো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (হামের টিকা) আওতার বাইরে রয়েছে, যা স্বাস্থ্যবিভাগকে ভাবিয়ে তুলছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু সাইফাতুল কাশফি। সে নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের ঋষি নওগাঁ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ঠান্ডা ও জ্বর নিয়ে শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার শরীরে হামের মতো লালচে গুটি দেখা দিলে অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। সোমবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নাটোর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৩৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে ৩ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংক্রমণ রোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের সাধারণ ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে আলাদা কক্ষে (আইসোলেশন) রেখে চিকিৎসা প্রদান করছে।

নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, মৃত শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে মৃত্যুটি হামের কারণে কি না। তবে বর্তমানে জেলায় হামের উপসর্গ দেখা দিলেই রোগীদের দ্রুত আইসোলেশনে রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে এই বয়সী শিশুদের সুরক্ষায় পরিবারের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। শিশুর শরীরে জ্বর ও দানাদার গুটি দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন