ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নাজিয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা: বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো পোস্টার ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগের ফলে চিরাচরিত পোস্টার, মাইকিং ও দৃশ্যমান প্রচারণা না থাকায় চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি ও নিরুত্তাপ পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে পরিবেশ সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, অন্যদিকে নির্বাচনের চিরচেনা আমেজ হারিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
নির্বাচন মানেই আগে দেখা যেত রাস্তার মোড়, অলিগলি, দেয়াল কিংবা গাছপালা ছেয়ে থাকা সাদা-কালো পোস্টারের সমাহার। তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসির নতুন বিধিমালায় পোস্টার নিষিদ্ধ করায় চুয়াডাঙ্গার ছাপাখানা ব্যবসায় নেমে এসেছে বড় ধরনের স্থবিরতা। চুয়াডাঙ্গা শহর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছাপাখানাগুলো অনেকটাই নিস্তব্ধ। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচন ঘিরে সাধারণত কয়েক লাখ টাকার পোস্টার ছাপানোর অর্ডার আসত, কিন্তু এবার কাজ না থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। লাখ লাখ টাকার কাগজ কিনে বসে থাকলেও প্রচারণার ধরণ বদলে যাওয়ায় তাদের হাতে কোনো কাজ নেই।
নির্বাচন কমিশনের গত ১০ নভেম্বরের গেজেট অনুযায়ী, এবার কেবল লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে সেখানেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে—দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণার এই নতুন ধরণ চুয়াডাঙ্গা সদরের হাসপাতাল পাড়ার সাইদুর রহমানের মতো অনেক ভোটারকেই বিপাকে ফেলেছে। তিনি বলেন, “পোস্টার ছাড়া নির্বাচন কেমন জানি অচেনা লাগছে। যারা বাড়ির বাইরে কম বের হন, তারা প্রার্থী ও প্রতীক চিনতে সমস্যায় পড়ছেন।” তবে আব্দুল আলিমের মতো কিছু সচেতন নাগরিক মনে করছেন, এতে শহর পরিষ্কার থাকছে এবং পরিবেশের ক্ষতি কম হচ্ছে।
নতুন আচরণবিধিতে প্রযুক্তির ব্যবহারেও কঠোরতা আনা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে ড্রোন বা কোয়াদকপ্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারলেও আকাশ থেকে কোনো প্রকার লিফলেট ছড়ানো যাবে না। এছাড়া দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল শব্দসীমায় মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটারের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং স্লিপের আকারও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। গত ২১ জানুয়ারি রাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত। পোস্টারহীন এই নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ