ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভাঙ্গা (ফরিদপুর): গতানুগতিক রাজনীতি ও প্রচলিত শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম বলেছেন, প্রচলিত নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে দেশে খুন, চুরি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এই শাসনপদ্ধতি লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সর্বস্বান্ত করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা ইসহাক চোকদারের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে সৈয়দ মো. রেজাউল করিম জামায়াতে ইসলামী ও জোটের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ গড়ার লক্ষ্যে একটি ইসলামি ‘বাক্স’ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কওমি ঘরানার দলসহ জামায়াতও যোগ দিয়েছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে দেখা গেল, সেই ৬ নম্বর দল এখন ‘মাতুব্বর’ হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে না এবং ভারত ও আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে। এমন নেতৃত্বের অধীনে ইসলামী আন্দোলন থাকতে পারে না। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের হিন্দু প্রার্থী নিজে স্বীকার করেছেন জামায়াত একটি ইসলামি দল নয়। এমনকি জোট নেতা কর্নেল অলি আহমদও বলেছেন যে তারা ইসলাম অনুযায়ী নয়, বরং প্রচলিত নিয়মে দেশ চালাবেন। অথচ এই প্রচলিত নিয়ম ৫৪ বছর ধরে এ দেশে বিদেশিদের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করে চলেছে।
চরমোনাই পীর আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামী আন্দোলনের কোনো এমপি সংসদে না গেলেও তাদের কাছে ক্ষমতার প্রলোভন অনেক ছিল। বিভিন্ন দল তাদের এমপি ও মন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দিলেও তারা নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দেয়নি। টাকার অভাবে বর্তমানে তাদের প্রার্থীদের নির্বাচন করতে কষ্ট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যে আদর্শের মাধ্যমে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে, তার সহযোগী ইসলামী আন্দোলন কখনোই হবে না। তিনি ভোটারদের প্রতি প্রচলিত নষ্ট রাজনীতি বর্জন করে ইসলামের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভাঙ্গা উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মো. হান্নান মাতুব্বরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. ইসহাক চোকদার, কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা মোক্তার হোসেন জাফর এবং ফরিদপুর জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। জনসভাকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ