শর্ত ভেঙে মাটি কাটলেও নির্বিকার প্রশাসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ফসলি জমি

শর্ত ভেঙে মাটি কাটলেও নির্বিকার প্রশাসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ফসলি জমি

আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নে প্রশাসনের লিখিত অনুমতি ও শর্তের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটা চলছে। কৃষি জমি ও সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনার এমন লঙ্ঘন এবং তদারকির অভাব নিয়ে খোদ সরকারি মহলেই প্রশ্ন উঠেছে।

নেহালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মো. আব্দুল বারিক মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমতিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, সংগৃহীত মাটি কোনোভাবেই বিক্রি বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অন্যত্র অপসারণ করা যাবে না। এছাড়া মাটি কাটার সময় আশপাশের রাস্তা বা কোনো স্থাপনার ক্ষতি করা যাবে না—এমন শর্ত থাকলেও বাস্তবে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করে ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি বহন করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় কাঁচা ও পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ইতিপূর্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি মাটি কাটা বন্ধ করেননি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী এই চক্রটি প্রশাসনের নোটিশকে তোয়াক্কা না করেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সচেতন মহল বলছে, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ নেই। মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের এমন শৈথিল্যে একদিকে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। বারবার অভিযোগের পরও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী দাবি করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, "অবৈধ মাটি কাটা ও শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাটি কাটা বন্ধ না করলে এবং শর্ত পূরণ না করলে আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তবে এলাকাবাসীর শঙ্কা, কেবল কাগজে-কলমে নোটিশ না দিয়ে মাঠে গিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

এ.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন