ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
পলাশ বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের পর এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস লিকু গাজীর ভাই ছোটন গাজী আওয়ামী বলয় ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোট চেয়েছেন। আওয়ামী পরিবারের একাধিক নেতার এভাবে পক্ষ ত্যাগ করার বিষয়টি জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিকেলে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে গণসংযোগে অংশ নিয়ে ছোটন গাজী সাধারণ ভোটারদের কাছে কলস প্রতীকে (স্বতন্ত্র) ভোট প্রার্থনা করেন। এ বিষয়ে ছোটন গাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে ব্যক্তি ইমেজকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, “সিরাজুল ইসলাম গোপালগঞ্জে একজন পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি। এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে তাকে সবসময় পাশে পাওয়া যায়। মূলত এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের দায়বদ্ধতা থেকেই আমি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছি।”
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও মধ্যম সারির আরও অনেক নেতা গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। অনেক আওয়ামী লীগ নেতা পরিস্থিতির কারণে প্রকাশ্যে না এলেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে আমাকে জয়যুক্ত করে নীরব বিপ্লব ঘটাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্যের জায়গায় এই ধরণের ভাঙন দলটির অস্তিত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের বিরোধী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন এই দলীয় কোন্দল ভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
পি.বি/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ