গাজীপুরে বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৪৫ ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা

গাজীপুরে বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৪৫ ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বসতবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে নগদ টাকা, টেলিভিশন, ফ্রিজ ও আসবাবপত্রসহ সব সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ভাড়াটিয়ারা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তরপাড়া এলাকায় ডেকু কারখানা সংলগ্ন তানিয়া মেডিকেল হাসপাতালের মালিক খোকন মিয়ার ভাড়া বাসা ও পাশের নুরুল ইসলামের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে খোকন মিয়ার ভাড়া বাসার একটি কক্ষে রান্না করার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে খোকন মিয়ার বাড়ির ৩৫টি কক্ষ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তা দ্রুত পাশের নুরুল ইসলামের বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানেও ১০টি কক্ষ পুড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের অধিকাংশই পাশের ডেকু কারখানার পোশাক শ্রমিক। ঘটনার সময় তারা কর্মস্থলে থাকায় ঘরের কোনো মালামালই বের করতে পারেননি।

খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. নুরুল করিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। বাড়ির মালিক খোকন মিয়া ও নুরুল ইসলাম জানান, আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে এবং ভাড়াটিয়ারা সবকিছু হারিয়ে এখন নিঃস্ব।

স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জিল খান জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে স্থানীয়রা পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও পরিবারগুলো অতি দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এম.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন