ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ ইউসুফ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাদাছড়া ও গিলানি ছড়ায় অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনকারীদের তাণ্ডব কোনোভাবেই থামছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার নোটিশ দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বালুখেকোরা আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্র ছড়াগুলো গিলে খাচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রমজান মিয়ার নেতৃত্বে গিলানি ছড়ার হলহলিয়া ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় দিনরাত বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত এসব বালু ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে পাচার করছেন তার ভাই শাহজাহান মিয়া, ফরহাদ মিয়া, আবু সাঈম তালুকদার ও আব্দুর রউফ খানসহ একটি চক্র। অন্যদিকে, পানছড়ি এলাকার গাদাছড়া থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ মিয়ার ছেলে ফয়েজ মিয়া, ইউপি সদস্যের ভাই মাসুক মিয়া ও মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই এলাকার আসাদুজ্জামান, সুমন মিয়া ও শামীম মিয়াসহ কয়েকজনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব বালু জেলার বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে বালু লুটের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় গত বছরের ৪ নভেম্বর দুইটি পৃথক নোটিশে ৪০ জন অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত মামলা কিংবা পরবর্তী কোনো দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের গোপন সমঝোতার কারণেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে গাদাছড়া ও গিলানি ছড়ার আশপাশের সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং চা বাগান ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ছড়া থেকে লাগাতার বালু উত্তোলনের কারণে জমির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরাও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে ছড়া ও নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে চুনারুঘাট উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার ও এক্সকাভেটর জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. ইউসুফ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এম.ইউ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ