এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এখন বাহুবলে
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: মঙ্গলবার সিলেটে জুলাই পদযাত্রায় হামলার অভিযোগে হবিগঞ্জে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ব্যাপক পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ও কর্মীরা হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হলে পথে পথে একাধিক ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের পথ আটকানো হয়।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক বাধা পেরিয়ে বিকেলে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেন তাঁরা। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলেও এনসিপি নেতারা বৃষ্টিতে ভিজেই মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তাঁদের প্রথম বহর আটকে দেওয়া হয়। ওই বহরে থাকা দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, "কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমাদের অন্তত তিনটি স্থানে আটকানো হয়েছে। প্রথমে পুলিশ দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়, পরে রাস্তার মাঝে ট্রাক দাঁড় করিয়ে চাকা পাংচার করে দেওয়া হয় এবং সর্বশেষ আড়াআড়িভাবে ট্রাক্টর রেখে আমাদের গতি রোধ করার চেষ্টা করা হয়।"
তবে সব বাধা পেরিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাঁরা একে একে চারটি ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছেন।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রাথমিক বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁরা পুলিশের নির্দেশনা না মেনে শ্রীমঙ্গল সীমান্ত অতিক্রম করে চলে গেছেন।
এদিকে শ্রীমঙ্গলে ১৪৪ ধারা জারির কারণে এনসিপির পক্ষ থেকে বিকেল সাড়ে চারটায় হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হলেও নেতাদের পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তা নির্ধারিত সময়ে শুরু করা যায়নি।
এই বহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|