‘বাঘ রক্ষা মানে সুন্দরবনের প্রতিবেশ সুরক্ষা, বাঘের আবাসস্থল রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর’: পরিবেশমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ণ
‘বাঘ রক্ষা মানে সুন্দরবনের প্রতিবেশ সুরক্ষা, বাঘের আবাসস্থল রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর’: পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অহংকার বেঙ্গল টাইগার ও এর স্বাভাবিক প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে বর্তমান সরকার পুরোপুরি নীতিগতভাবে বদ্ধপরিকর বলে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা জানান। এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসের সময়োপযোগী প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।

পরিবেশমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাঘের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "বাঘ পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় একটি ‘কিস্টোন স্পিসিস’ (Keystone species), যা গোটা সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল ও সামগ্রিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাই বাঘ সংরক্ষণ মানে কেবল একটি বন্যপ্রাণী বাঁচানো নয়; এর সাথে সুন্দরবনের কোটি কোটি প্রাণিকুল, বনজ সম্পদ, প্রজননক্ষেত্র ও প্রাকৃতির প্রতিবেশব্যবস্থার স্থায়িত্ব জড়িয়ে আছে।"

বাঘের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র নিশ্চিত করা ও লোকালয়ে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত চিরতরে বন্ধে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্প্রতি ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশন সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি, অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনাঞ্চল সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে সার্বিক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে।

সুসংবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা ও স্থানীয়দের সহায়তায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতি ব্যবহারে দেখা গেছে—২০১৫ সালে সুন্দরবনে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জরিপে ১২৫টি বাঘের অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে।

বাঘ এবং বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা চামড়া পাচারের বিরুদ্ধে সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তাছাড়া বাঘ সংক্রান্ত কোনো অপরাধের নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারলে ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরাসরি আর্থিক পুরষ্কার প্রদানের বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, "বাঘ আমাদের জাতীয় সাহসিকতা ও ঐতিহ্যের রূপক। প্রধানমন্ত্রী জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। বাঘের সুপেয় মিষ্টি পানির সুব্যবস্থা করতে সুন্দরবনে ইতোমধ্যে ৮০টি নতুন পুকুর খনন ও বিশ্রামের জন্য ২০টি কৃত্রিম টিলা নির্মাণ করা হয়েছে। লোকালয় থেকে বনকে আলাদা করতে নাইলনের সুদৃঢ় নেট দিয়ে ঘেরা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাঘ আর লোকালয়ে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে না।"

অনুষ্ঠানের আলোচক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ভাবার পরামর্শ দেন।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ। অনুষ্ঠানে ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রতিনিধি বিপাশা এস হোসেন সহ গণমাধ্যমকর্মী ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন