ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে বইছে নতুন হাওয়া। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা নাসির উদ্দিন যুক্তিবাদী। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত এই বক্তা এখন ১১ দলীয় জোটভুক্ত খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। তাঁর এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাওলানা নাসির উদ্দিন দলটির প্রভাবশালী মহলের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সে সময় তিনি সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সরকারি খরচে হজ পালনসহ নানা রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য পাওয়ার কারণেই তিনি একসময় দলটির ‘কাছের মানুষ’ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেই পুরোনো চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে।
বর্তমানে মাওলানা নাসির উদ্দিনকে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর পক্ষে সভা-সমাবেশে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তাঁর বাগ্মীতাকে কাজে লাগাচ্ছে ১১ দলীয় জোট। বিশেষ করে ধর্মীয় আবেদন ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার তাঁর এই প্রচেষ্টা ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মাওলানা নাসির উদ্দিনের এমন অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, যিনি বছরের পর বছর সুবিধা নিয়েছেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে তাঁর এমন ভোল পাল্টানো রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস ও জোটের সমর্থকদের মতে, প্রত্যেক নাগরিকেরই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বেছে নেওয়ার অধিকার আছে এবং তিনি এখন সত্যের পথে প্রচার চালাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জের মতো আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত অঞ্চলে নাসির উদ্দিনের মতো একজন প্রভাবশালী বক্তার অবস্থান পরিবর্তন সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি বা কৌতূহল—উভয়ই তৈরি করতে পারে। তবে তাঁর এই ‘ভোল পাল্টানো’ ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্বাচনের দিন ব্যালটেই বোঝা যাবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ