রাশিয়ায় যুদ্ধের ফাঁদে পড়ে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ণ
রাশিয়ায় যুদ্ধের ফাঁদে পড়ে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু

সকালবেলা প্রতিবেদক: রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে পাচারের পর জোর করে ইউক্রেন যুদ্ধের ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সম্মুখসারির যুদ্ধে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের কারণে ইতিমধ্যেই তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এই ভয়াবহ মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মিজানসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুরের নগরকান্দার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মিজানুর রহমান (৫৫) এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আবু তাহের লেন্টুকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, চক্রটি ভুক্তভোগী রাজন হোসেনকে (২১) নির্মাণকাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠায়। গত ৭ মে সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকেসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে বাধ্য করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ানো হয়। ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের চরম ঝুঁকিপূর্ণ সম্মুখসারিতে পাঠানো হতো। মূলত প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলার মাধ্যমে তাঁদের অবস্থান ও দূরত্ব চিহ্নিত করতে ভুক্তভোগীদের শিকার হিসেবে সামনে ঠেলে দেওয়া হতো।

তিনি আরও জানান, এমনই এক ড্রোন হামলায় পঙ্গুত্ববরণ করেন রাজন। চার দিন পর তিনি অলৌকিকভাবে হাসপাতালে পৌঁছান এবং পরবর্তীতে কনস্যুলার সহায়তায় ২৩ আগস্ট দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে ক্ষতিপূরণ চাইলে আসামিরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলে এসআরবি তদন্ত শুরু করে।

অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে কর্মকর্তা জানান, এই চক্রের হাতে পাচার হওয়া ৩০ জনের মধ্যে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ জন কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে দেশে ফিরেছেন। অবশিষ্ট ৮ জনের মধ্যে ২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ৬ জন এখনো যুদ্ধের ময়দানে আটকে আছেন।

এআইএল/সকালবেলা