স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কমল দাম

স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কমল দাম

দেশের বাজারে স্বর্ণের আকাশচুম্বী দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, এবার সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে এক লাফে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমানো হয়েছে।

​সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকেই সারা দেশে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত রোববার রাতেও ভরিতে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল। অর্থাৎ দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমলো মোট ৮ হাজার ৫১৫ টাকা।

​বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারেও স্বর্ণের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের জন্য এই দরপতন একটি বড় স্বস্তি।

​বাজুসের নতুন ঘোষণায় মানভেদে প্রতি ভরিতে দাম কমেছে বিভিন্ন পরিমাণে। নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা, যা আগের চেয়ে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কম। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা, কমেছে ৬ হাজার ২৮৭ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা, এতে হ্রাস পেয়েছে ৫ হাজার ৩৯০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা, যা আগের তুলনায় ৪ হাজার ৪১০ টাকা কম।

​স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন আসলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬২৪ টাকাতেই স্থির রয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ হাজার ৫০৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

​চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ২১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। 

এর মধ্যে একনাগাড়ে ১৪ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যার ফলে স্বর্ণের দাম আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে এবারের টানা দুই দফার পতন গ্রাহকদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। গহনা ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দাম কমতে শুরু করায় এবং সামনে বিয়ের মৌসুম থাকায় বেচাকেনা আবার চাঙ্গা হবে।

​আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন