ইরান চুক্তি নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধ শুরুর আগের লক্ষ্য পরিত্যাগ, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরও যুদ্ধের অবসান ঘটাতে করা চুক্তিতে ইরানকে ব্যাপক ছাড় দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনায় একবাক্যে সরব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দেওয়া সংঘাতের ইতি টানতে ট্রাম্প বুধবার প্যারিসের বাইরে আয়োজিত এক নৈশভোজে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। তবে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ফিরে ট্রাম্পকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যুদ্ধের সমর্থক ও বিরোধী—উভয় পক্ষ থেকেই তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ট্রাম্প-সমর্থক হিসেবে পরিচিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ সমালোচকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই চুক্তিতে ইরানকে ‘বিপুল আর্থিক সুবিধা’ দেওয়া হয়েছে, অথচ তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলার কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৬ লাখ কোটি টাকা) পুনর্গঠন তহবিল কার্যকরে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করলেও ফক্স নিউজ বলছে, সমালোচকদের মতে ইরানকে দেওয়া ছাড়ের পরিমাণ এর বিনিময়ে পাওয়া প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক বেশি।
উদারপন্থী মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমএস নাউ আরও কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছে। তাদের ভাষ্য, ‘হোয়াইট হাউস এমন একটি যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব কোনো লক্ষ্যই পূরণ করেনি, অথচ তেহরানকে বিপুল আর্থিক সুবিধা দিয়েছে।’ তারা আরও বলে, ‘বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প ইরানিদের হাতে পরাস্ত হয়েছেন এবং তার এই প্রচার কৌশল কেউ বিশ্বাস করছে না।’
মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, চুক্তিটি ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতিগত বাজি’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্পকে ইরানবিষয়ক কট্টরপন্থীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে, যারা মনে করেন প্রেসিডেন্ট যা পাচ্ছেন তার তুলনায় অনেক বেশি ছাড় দিচ্ছেন।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, এই সংঘাতের পর ইরানের ‘উদযাপনের অনেক কারণ’ থাকতে পারে। কারণ চুক্তিটি ‘কোনোভাবেই আত্মসমর্পণের দলিলের মতো নয়।’ পত্রিকাটির মতে, যুদ্ধ শেষে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আরও কাছাকাছি চলে যেতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হওয়ার সময় ট্রাম্প ইরানি শাসনব্যবস্থার পতনের সম্ভাবনার কথা বললেও, তিনি মূলত ইরানের নতুন নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন।
এদিকে ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (এনপিআর) যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির ওপর জোর দিয়ে বলেছে, এই যুদ্ধ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একটি আঞ্চলিক শক্তির সংঘাত, যা শেষ পর্যন্ত এক বড় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিল।
|