সহকর্মীকে কুপ্রস্তাব ও হেনস্তা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ণ
সহকর্মীকে কুপ্রস্তাব ও হেনস্তা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর মান্দায় এক নারী সহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব, উত্যক্ত ও ব্ল্যাকমেইল করার পর প্রকাশ্যে হেনস্তা করার অভিযোগে এক গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম জিয়াউল হক জিয়া। তিনি উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষক চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে শিক্ষক জিয়াউল হক ওই নারী সহকর্মীকে বিভিন্ন অজুহাতে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষককে সামাজিক ও পেশাগত ক্ষতির ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন ও অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন। এ নিয়ে পূর্বে বিদ্যালয়ে একবার সালিস বৈঠক হলে তিনি ক্ষমা চেয়ে পার পান। তবে গত ১০ জুন নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার সময় একাডেমিক ভবনের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই নারী শিক্ষকের পথরোধ করে তাকে চরম হেনস্তা করেন জিয়া। সর্বশেষ গতকাল বুধবার (১৭ জুন) বিদ্যালয়ের সামনেই তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষককে জুতাপেটা করার চেষ্টা চালালে অন্য শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়ার চারিত্রিক ইতিহাস অত্যন্ত কলঙ্কিত। এর আগে তিনি নিজের স্কুলের এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দক্ষিণ পরানপুর গ্রামের ওই ছাত্রীকে বিয়ে করার পর তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে জোরপূর্বক ডিভোর্স দেন। এই মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে তার প্রথম স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।

এদিকে শিক্ষকের এমন অপকর্মের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা সমবেত হয়ে লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক বিদ্যালয় থেকে সটকে পড়েন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠান থেকে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো তোয়াক্কা না করায় ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশাসনের আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষকের এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মন্তব্য করুন