শিবির নেতা জিসানের পক্ষে দাঁড়ানো কুমিল্লার দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ণ
শিবির নেতা জিসানের পক্ষে দাঁড়ানো কুমিল্লার দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে যাওয়া ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কুমিল্লার দুই আইনজীবীর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিয়োগ বাতিল করেছে আইন মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়েও আসামির পক্ষে সাফাই গেয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পদ হারানো দুই আইনজীবী হলেন—কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম। কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিঙ্কু এই আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ইতোপূর্বে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশটি বাতিল করা হলো। এই আদেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে পিপি কাইমুল হক রিঙ্কু বলেন, সরকারি আইনজীবী হয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে কোনো আসামির পক্ষে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। অন্যদিকে কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানান, ওই দুই আইনজীবী আসামির পক্ষে সরাসরি ওকালতনামা সই না করলেও তারা আদালত চত্বর থেকে জিসানের পক্ষে গণমাধ্যমের কাছে অবস্থান নিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে তার নিখোঁজ ডায়েরির তদন্তে নেমে জেলা পুলিশ জানতে পারে, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে হওয়া মামলা থেকে বাঁচতেই তিনি এই নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছিলেন। গত ১২ জুন লাকসাম জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধারের পর তদন্ত সাপেক্ষে গত ১৬ জুন আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে ছাত্রশিবির থেকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

মন্তব্য করুন