পাকিস্তানের চা, আতিথেয়তা ও বিয়ের ঐতিহ্যের প্রেমে মার্কিন কূটনীতিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স নাটালি এ বেকার দেশটির আতিথেয়তা, স্থানীয় খাবার, ক্রিকেটের সংস্কৃতি এবং প্রাণবন্ত বিয়ের ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানিদের আন্তরিকতার কারণে এখানে আসা অতিথিরা নিজেদের ‘পরিবারের সদস্য’ বলে মনে করেন উল্লেখ করে পাকিস্তানের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন এই শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক।
ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাটালি এ বেকার জানান, অবসর সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং নতুন জায়গা ও অভিজ্ঞতার সন্ধানে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে তিনি ভীষণ পছন্দ করেন। পাকিস্তানে আসার পর থেকেই এ অঞ্চলের ক্রিকেটের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ জন্মেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদিও খেলাটির সব নিয়ম ও খুঁটিনাটি শেখার প্রক্রিয়া এখনো চলছে, তবুও সুযোগ পেলেই তিনি স্টেডিয়ামে যান এবং পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যাচে গ্যালারিতে বসে দলকে উৎসাহ দেন।
পাকিস্তানি সংস্কৃতির কোন বিষয়টি আমেরিকানদের আরও ভালোভাবে বোঝা উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে এই কূটনীতিক আতিথেয়তাকে সবার উপরে স্থান দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা অতিথিদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক এবং এ দেশে আসা অতিথিরা দ্রুতই নিজেদের বাড়ির মতো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পাকিস্তানের খাবারের অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি জানান, তার প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে ‘পালং পনির’ ও বিভিন্ন পদের ডাল। একই সঙ্গে এখানকার চা ও স্থানীয় স্ন্যাকস পেঁয়াজু (পাকোড়া) তার অত্যন্ত সুস্বাদু লেগেছে এবং এখানকার মিষ্টিজাতীয় খাবারগুলো তার ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে।
বিপরীতে পাকিস্তানিরা কোন ধরনের আমেরিকান খাবার চেখে দেখতে পারেন, এমন প্রশ্নে টেক্সাসের সান আন্তোনিও’র বাসিন্দা বেকার নিজের শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রেকফাস্ট টাকো’ এবং বিখ্যাত ‘টেক্সাস বারবিকিউ’ এর নাম প্রস্তাব করেন। সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের বিয়ের রীতিনীতিকে নিজের অন্যতম প্রিয় সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে ‘জাদুকরী’ বলে অভিহিত করেন। মেহেদি থেকে শুরু করে বরযাত্রী ও ওলিমা পর্যন্ত পুরো উদযাপনকে আনন্দঘন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এখানে অবস্থানকালে বেশ কয়েকটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হওয়ার সুযোগে তার মনে হয়েছে, বিয়ের কনেদের দেখতে অবিকল রাজকুমারীর মতো লাগে।
|