কফি কি ডিহাইড্রেশনের কারণ হতে পারে
লাইফস্টাইল ডেস্ক: অনেকেই সকালটা শুরু করেন এক কাপ কফি দিয়ে। কিন্তু একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, কফি পানে শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হতে পারে। কফি নিজেই একটি পানীয় হওয়া সত্ত্বেও এটি নিয়ে কেন এমন ভয়? বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
কফিকে ডিহাইড্রেশনের কারণ ভাবার মূল কারণ হলো এতে থাকা ক্যাফেইন। ক্যাফেইনের একটি হালকা মূত্রবর্ধক প্রভাব রয়েছে, যার ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে যারা নিয়মিত কফি পান করেন, তাদের শরীরে ক্যাফেইনের এই প্রভাব খুব একটা দেখা যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে তা দৈনিক তরল গ্রহণের ক্ষেত্রে পানি বা অন্যান্য পানীয়ের মতোই অবদান রাখে।
সাধারণত পরিমিত কফি পানে ডিহাইড্রেশন হয় না। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বাড়তে পারে
অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে (দিনে ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি)। সারাদিন পানির বদলে কেবল কফির ওপর নির্ভর করলে। পর্যাপ্ত পানি পান না করে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে। গরম আবহাওয়ায় শরীরের পানির চাহিদা বেশি থাকলে।
সবাই ক্যাফেইনে একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান না। যারা হঠাৎ করে কফি খাওয়া শুরু করেছেন, বয়স্ক ব্যক্তি বা যারা কিডনির জটিলতায় ভুগছেন—তাদের শরীরে পানির ভারসাম্য সম্পর্কে বাড়তি সচেতন থাকতে হবে। তৃষ্ণা পাওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।
দৈনিক ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রা (সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম) বজায় রাখুন। কফি পানের পাশাপাশি এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন, বিশেষ করে গরমের দিনে। প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ হলে বুঝবেন শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক আছে। শুধুমাত্র কফির ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি, ফলের রস, শাকসবজি ও স্যুপের মাধ্যমে শরীরে তরলের জোগান বজায় রাখুন।
পরিমিত কফি পানে ভয়ের কিছু নেই; শুধু মনে রাখতে হবে, কফি কখনোই বিশুদ্ধ পানির বিকল্প নয়।
জান্নাত সকালবেলা
|