চোখে ছানি পড়া প্রতিরোধে কার্যকরী ৫টি উপায়
লাইফস্টাইল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ চোখে ছানি পড়া। লেন্স ঘোলা হয়ে যাওয়ার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা এই রোগটি বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকট হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো সঠিক হলে ছানি পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো বা বিলম্বিত করা সম্ভব।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে ‘স্বাস্থ্য, সচেতনতা ও লাইফস্টাইল ডেস্ক’-এর বিশেষ বুলেটিনে চোখ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হলো।
ইউভি (UV) রশ্মি থেকে সুরক্ষা: সূর্যের আলোতে থাকা অতিবেগুনি বা আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি লেন্সের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তন করে ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে ছানি পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই মেঘলা দিনেও বাইরে বের হওয়ার সময় এমন সানগ্লাস ব্যবহার করুন যা ১০০% UVA এবং UVB রশ্মি প্রতিরোধে সক্ষম। এছাড়া বাইরে বের হওয়ার সময় চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করলে চোখের ওপর সরাসরি সূর্যালোক পড়া সীমিত করা সম্ভব, যা ছানি রোধে দারুণ কার্যকর।
পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: চোখের স্বাস্থ্যের জন্য সঠিক পুষ্টি অপরিহার্য। পালং শাক, কেল, ব্রোকলি, কমলা, আম এবং রঙিন শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে লুটেইন, জিক্সানথিন, ভিটামিন সি এবং ই থাকে। এগুলো চোখের লেন্সে জমা হওয়া ফ্রি র্যাডিকেলকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। এছাড়া স্যামন বা সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের আর্দ্রতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত রাখে, যা দীর্ঘ সময় চোখকে সুরক্ষিত রাখে।
ধূমপান বর্জন: ধূমপান কেবল ফুসফুসের জন্যই নয়, চোখের জন্যও চরম ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি। ধূমপান রক্তে বিষাক্ত যৌগের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা চোখের লেন্সের অক্সিডেটিভ ক্ষতিকে ত্বরান্বিত করে। তাই দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে যেকোনো বয়সে ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণ: শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্যের সাথে চোখের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস লেন্সের ঘোলাটে হওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে লেন্স প্রসারিত হয়ে দৃষ্টি ঝাপসা হতে শুরু করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখলে ছানি পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়।
নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা: অনেক সময় ছানি বা গ্লুকোমার মতো চোখের গুরুতর সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই একজন অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়স পার হওয়ার পর প্রতি দুই বছরে অন্তত একবার এবং ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করা উচিত। এর মাধ্যমে রোগের প্রাথমিক উপসর্গ শনাক্ত করা সম্ভব এবং সময়মতো চিকিৎসা নিয়ে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সহজ হয়।
পরিশেষে, আমাদের অবহেলার কারণেই অনেক সময় চোখ ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন এবং নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে আমরা বার্ধক্যেও দৃষ্টিশক্তি সতেজ রাখতে পারি। মনে রাখবেন, অন্ধত্বের চেয়ে সচেতনতা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর।
জান্নাত সকালবেলা
|