হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেন শিবির নেতা জিসান, আজই তোলা হচ্ছে আদালতে
নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি, সদ্য বহিষ্কৃত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে ছাড়পত্র দিয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় তাকে এই ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হেলালুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (১৫ জুন) মেডিকেল বোর্ড জিসানের শারীরিক অবস্থা ও বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরিচালকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই রিপোর্টে জিসানকে সুস্থ উল্লেখ করা হলে আজ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিসচার্জ বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ জানান, “আসামি জিসানকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে আমরা তাকে এখন আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত থেকে জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ডায়েরি করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৮-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং অসুস্থতার কারণে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন শনিবার (১৩ জুন) এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদী হয়ে জিসানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান তাঁর চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে ওষুধ পাঠিয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সেই বিয়ে এড়াতে এবং গ্রেফতার থেকে বাঁচতেই জিসান মূলত ‘নিখোঁজের নাটক’ সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে গত রবিবার (১৪ জুন) জিসানের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে ৪ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে দলটির পক্ষ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
|