ইরানে কোনো অর্থ খরচ করবে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তিকে যথার্থ এবং দারুণ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “গত সপ্তাহে আমি তাদের ওপর হামলা করতে চাইনি। কিন্তু আমাদের হামলা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।”
এদিকে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা চালানোকে ভালোভাবে নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি তাদের (ইসরায়েল) জানিয়ে দিয়েছি। আমি ওটা মোটেও পছন্দ করিনি।”
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, “তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করছে। এতে অত্যধিক মানুষ মারা যাচ্ছে। কাউকে খোঁজার জন্য আপনাদের প্রতিবার একটি করে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনগুলোতে অনেক সাধারণ মানুষ থাকে, তারা সবাই হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত নয়।” হিজবুল্লাহকে সামলানোর বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সিরিয়া এই কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।
ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালালেও এই চুক্তি টিকে থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি বলেন, “টিকে থাকবে। কারণ আমি সেটিকে একটি ছোটখাটো যুদ্ধ মনে করি। ইরান হলো বড় বিষয়, তবে আমাদের জন্য সেখানে একটা ছোট কাঁটার মতো বিষয় রয়েছে। এটি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, আর সেটি হলো হিজবুল্লাহ।”
এর আগে শান্তি চুক্তি ঘোষণার পর গত রবিবার ট্রাম্প জানান, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইতিমধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং তেলবাহী অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা নিশ্চিত করেছেন। ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই চুক্তিকে ইরানের বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। ঘারিভাবাদি একটি গণমাধ্যমকে জানান, কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে এই প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
তবে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেখিয়ে দিয়েছে যে তাদের কাছে পরাজয় ও আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের এখনও গভীর অবিশ্বাস রয়েছে। এই চুক্তিটি কেবল ‘উত্তেজনা কমানোর একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।’
জান্নাত সকালবেলা
|