ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি শিশুর মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের পরদিন একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় প্রথম শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর নাম নন্দিনী (৭)। সে ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং একই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে ছিল। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে বাড়ি থেকে বাইরে খেলতে বের হয়েছিল নন্দিনী। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। স্বজনরা সারারাত ধরে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
আজ মঙ্গলবার সকালে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির অদূরে একটি ভুট্টাক্ষেতের ভেতর নতুন নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ওই স্থানে মাটি খুঁড়তেই নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ বেরিয়ে আসে। খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের ধারণা, এলাকারই কোনো পাষণ্ড দুর্বৃত্ত শিশুটিকে ফুসলিয়ে বা জোরপূর্বক ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে গর্তে পুঁতে রাখা হয়।
কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটির বাবা নলিনী কান্ত বলেন, “গ্রামে আমাদের কারও সাথে কোনো শত্রুতা বা দ্বন্দ্ব নেই। খুব সাধারণ জীবনযাপন করি। সোমবার দুপুরেও মেয়ের সাথে একসাথে বসে ভাত খেয়েছি। আমার ছোট্ট মেয়েটিকে যারা এভাবে নির্যাতন করে মারল, আমি তাদের ফাঁসি চাই।”
ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপারসহ আদিতমারী থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহ করেছেন।
আদিতমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন মিয়া জানান, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে ধর্ষণের বিষয়টিসহ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে নেমেছে।”
|