মহিষের বাথান থেকে রাখাল অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ণ
মহিষের বাথান থেকে রাখাল অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

বগুড়া অফিস: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের একটি মহিষের বাথান থেকে চার রাখালকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অপহৃতদের উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) রাত দেড়টার দিকে যমুনার দুর্গম চরে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃতদের মুক্তির জন্য ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁদের স্বজনরা।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারিয়া গ্রামের ইউনুছ আলী সারিয়াকান্দির বোহাইল ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ১৬০টিরও বেশি মহিষ নিয়ে বাথান গড়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। বাথানের মহিষগুলো দেখাশোনার জন্য তিনি আটজন রাখাল নিয়োগ দেন। গত বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের কাজ শেষে রাখালরা বাথানে ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে একটি নৌকায় করে ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বাথানে চড়াও হয়। তারা ঘুমন্ত রাখালদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। এ সময় বাথানে থাকা অন্য রাখালরা চিৎকার শুরু করলে চরের আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুর্বৃত্তরা দ্রুত চার রাখালকে নৌকায় তুলে নদীপথে পালিয়ে যায়।

অপহৃতরা হলেন— নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া গ্রামের মৃত ইনসার মন্ডলের ছেলে ইউনুস মন্ডল (৫০), মৃত মোহাম্মদ মন্ডলের ছেলে মফের মন্ডল (৪০), চকবাদিকুল পাড়া গ্রামের কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে মাসুদ মন্ডল (৩২) এবং বিলবাড়িয়া মহড়কয়া গ্রামের মাজেদ মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল (৪০)।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) পর্যন্ত অপহৃত ওই চার রাখালের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মামলার বাদী ও অপহৃত ইউনুস মন্ডলের ছেলে সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, "ঘটনার ছয় দিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি। তাঁরা কী অবস্থায় আছেন, তা-ও জানি না। দুর্বৃত্তরা তাঁদের ছাড়তে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। কিন্তু আমাদের পক্ষে এত টাকা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা ভেবে আমরা দিশেহারা।"

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি নদী অঞ্চলে, তাই বিষয়টি সিরাজগঞ্জ নৌ পুলিশ তদন্ত করছে।

সিরাজগঞ্জ সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, "অপহৃত রাখালদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে নৌ পুলিশের জোর তৎপরতা চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও এই উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে।" তবে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন