নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অনিক (২০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁ এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে। তিনি স্থানীয় নাজিম উদ্দিনের অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। আজ মঙ্গলবার ভোরে তারা বেশ কয়েকটি স্পিডবোটযোগে দলবল নিয়ে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় ঢোকার পরপরই তারা বহিরাগত ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় প্রতিপক্ষ নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এ ঘটনার পর নাজিম উদ্দিনের সমর্থকরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুপক্ষই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলি চলে। সংঘর্ষ চলাকালে অনিক মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া সংঘর্ষে টেঁটা ও গুলিবিদ্ধসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে রাজু (২৮) ও মুবারক হোসেন (৩০) নামের দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুল্লাহ খান জানান, “সকালে সংঘর্ষে আহত তিন ব্যক্তি হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।”
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অনিক নামে একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তিনি আরও জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত নতুন সংঘর্ষ এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকা জুড়ে থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
|