শিশু নন্দিনী হত্যা: ওসি প্রত্যাহার, আহত এসপিসহ ২০ জন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ণ
শিশু নন্দিনী হত্যা: ওসি প্রত্যাহার, আহত এসপিসহ ২০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু নন্দিনী কান্ত রায়ের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আটক বাবা-ছেলেকে ঘিরে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সুপার (এসপি), ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত নন্দিনী কান্ত রায় (৭) একই গ্রামের নলিনী কান্ত রায়ের মেয়ে। আটক দুজন হলেন রণজিৎ কুমার ও তার ছেলে বিধান চন্দ্র রায় (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে বিধান চন্দ্রকে খুঁজতে গিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে তাদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানায়। এতে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিজিবি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে।

পরে পুলিশ তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে এসপি আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ প্রশাসনের অন্তত সাতটি সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিধান চন্দ্র শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, নন্দিনী হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আদিতমারী থানার ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন