চিকেন পক্স হলে কী করবেন এবং কী খাবেন না
লাইফস্টাইল প্রতিবেদক:ঋতু পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বর্তমানে ঘরে ঘরে যে রোগটি সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তা হলো জলবসন্ত বা ‘চিকেন পক্স’। সাধারণত ‘ভেরিসেলা-জোস্টার’ (Varicella-Zoster) নামক অত্যন্ত সংক্রামিত এক ভাইরাসের কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বা সংক্রামক ব্যাধি, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, ড্রপলেট কিংবা ফোস্কার তরল সরাসরি স্পর্শ করলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে মানবশরীরে এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সচেতনতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও লাইফস্টাইল খতিয়ান’ এবং ‘পাবলিক হেলথ প্রটেকশন, ভাইরাল ইনফেকশন ট্র্যাকিং ও নিউট্রিশনাল গাইডলাইন্স উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে চিকেন পক্সের লক্ষণ, ঘরোয়া যত্ন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
মেডিকেল ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, চিকেন পক্সের শুরুতে রোগীর শরীরে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর (৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস), তীব্র শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। এর পরপরই মুখ, বুক ও পিঠ থেকে শুরু করে সারা শরীরে তীব্র চুলকানিযুক্ত লালচে ফুসকুড়ি ওঠে, যা দ্রুতই স্বচ্ছ তরলে ভরা ফোঁস্কায় পরিণত হয়।
রোগ প্রতিরোধ মেথড অনুযায়ী, সাধারণত ১ থেকে ১০ বছর বয়সি শিশু, যাদের এই রোগের টিকা দেওয়া নেই, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ক্যানসার বা এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই পক্সের কন্ডিশন মারাত্মক হতে পারে। সঠিক সময়ে আইনি প্রটোকল বা চিকিৎসা না নিলে ত্বকের সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), কিংবা এনসেফালাইটিসের (মস্তিষ্কের প্রদাহ) মতো মেগা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রকাশিত স্বাস্থ্য খতিয়ানে পক্স রোগীর আরোগ্য দ্রুত করতে এবং সংক্রমণ ছড়ানো রোধে কিছু বিশেষ ঘরোয়া মেথডলজি ও খাদ্যাভ্যাসের কথা বলা হয়েছে
রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরে রাখতে হবে। নিয়মিত সাধারণ পানিতে নিমপাতা ফুটিয়ে, সেই পানি ঠান্ডা করে গোসল করালে চুলকানি কমে। প্রতিদিন অন্তত দুবার রোগীর সুতির ঢিলেঢালা পোশাক ও বিছানার চাদর বদলে ফেলা উচিত। ফোঁস্কা ফাটানো বা নখ দিয়ে চুলকানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এতে স্থায়ী দাগ বসে যায়। চুলকানি উপশমে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
পক্সের সময়ে মুখের ভেতর ছোট ছোট ক্ষত বা ঘা হয়। তাই প্রচুর ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি, খনিজ সমৃদ্ধ ডাবের পানি, ডালের পানি ও ঘরে তৈরি স্যুপ খাওয়াতে হবে। সহজে হজম হয় এমন খাবার যেমন—তেল ছাড়া সিদ্ধ সবজি (গাজর, আলু, পেঁপে), দই ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল বেশি করে খেতে হবে।
মাখন, পনির, চকলেট বা অতিরিক্ত তেল-ঝাল-মসলাযুক্ত খাবার মুখের ভেতরের ক্ষতের প্রদাহ ও যন্ত্রণা তিনগুন বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া আখরোট, চিনাবাদাম ও কিসমিসের মতো ড্রাই ফ্রুটস পরিহার করতে হবে; কারণ এগুলোতে থাকা এক ধরণের অ্যামাইনো অ্যাসিড পক্সের জীবাণুর বংশবিস্তারে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বরের জন্য প্রাপ্তবয়স্করা প্যারাসিটামল খেতে পারলেও, শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো ওষুধ দেওয়ার আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ভাইরাল অসুখের সময় শিশুদের কখনোই অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। যদি রোগীর জ্বর ৪ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তীব্র কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, অনবরত বমি হয় কিংবা ফুসকুড়ি থেকে পুঁজ বের হয়—তবে আর দেরি না করে দ্রুত মেগা কন্ডিশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর আইনি উপায় হলো সঠিক সময়ে চিকেন পক্সের টিকা (ভ্যাকসিন) নেওয়া।
জান্নাত সকালবেলা
|