প্রেমিক হিসেবে সাংবাদিককে বেছে নেওয়ার ১২টি যৌক্তিক কারণ

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ণ
প্রেমিক হিসেবে সাংবাদিককে বেছে নেওয়ার ১২টি যৌক্তিক কারণ
জীবনযাপন ডেস্ক:যদি হুট করে কাউকে প্রশ্ন করা হয়, একজন সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেম করা বা সংসার করা কেমন? তবে ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই উত্তর দেবেন—এটি মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়। এর বড় কারণ হিসেবে সামনে আসে তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির তুলনায় সীমিত উপার্জন, কাজের প্রতি অতিরিক্ত নিবেদন এবং অসময়ের ডিউটি। যখন উৎসব-পার্বণে পুরো দেশ ছুটি উপভোগ করে, তখনো সাংবাদিকদের ডেস্ক কিংবা মাঠ ছাড়ার উপায় থাকে না। প্রিয়জন ও পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার এই চিরন্তন বদনাম জেনেশুনে ক’জনই বা এমন মানুষের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর সাহস দেখান!

আজ বুধবার (১০ জুন) সংস্করণে প্রকাশিত ‘লাইফস্টাইল, ঘরকন্না, ডায়েট চার্ট ও পুষ্টিবিজ্ঞান’ এবং ‘ফিটনেস, মানসিক স্বাস্থ্য ও সুষম খাদ্য vanity উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে জীবন শেয়ার করার চমৎকার ও ইতিবাচক ১২টি খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, একজন সাংবাদিকের সাহচর্য আপনার সাধারণ জীবনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উঠে আসা সেই ১২টি দারুণ সুবিধার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

একজন সাংবাদিক প্রতিদিন সমাজের নানা জটিল ও খটমটে ঘটনাকে খুব সহজ উপায়ে গল্পের মতো করে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেন। তাদের এই সহজাত সৃজনশীলতা ও রসবোধ ব্যক্তিগত সম্পর্কের অন্দরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে তাদের সঙ্গে কাটানো সময়ে কোনো একঘেয়েমি আসার সুযোগ থাকে না।

অনেকে মনে করেন, সাংবাদিকেরা অত্যন্ত নিস্তেজ, খিটখিটে, অসামাজিক এবং কেবল নিজেদের আত্মপ্রেমেই মগ্ন থাকে। তবে বাস্তবতার খতিয়ান বলছে ভিন্ন কথা। পেশাগত কারণে তারা শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক পার্টি, সিনেমার এক্সক্লুসিভ প্রিমিয়ার শো কিংবা সেরা রেস্তোরাঁর খোঁজ সবার আগে জানেন।

বিশ্বজুড়ে ঠিক এই মুহূর্তে কী ঘটছে, কোন রাজনৈতিক বা সামাজিক বিষয়ের পেছনের আসল নেপথ্য কাহিনী কী—সাংবাদিকরা তা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত ও নিখুঁতভাবে জানেন। তাদের সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে আপনিও দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক সব বিষয়ে সবসময় আপডেটেড থাকবেন, যা আপনার নিজের স্মার্টনেস বাড়াতে সাহায্য করবে।

সাংবাদিকরা একাধারে ভীষণ বুদ্ধিমান ও চৌকস হয়ে থাকেন। বিশ্বের চারপাশের যেকোনো বিষয়ে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবিরাম ও আকর্ষণীয় আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। তাদের সঙ্গে কথা বললে আপনি কখনোই বিরক্ত হবেন না, বরং আপনার নিজের জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে।

সাংবাদিকদের প্রতিদিন প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও ডেডলাইনের মধ্যে কাজ করতে হয়। অগণিত কাজের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখাটা তাদের রক্তে মিশে থাকে। এই বিশেষ দক্ষতা তারা ব্যক্তিগত জীবনেও প্রয়োগ করেন। কর্মক্ষেত্রের তুমুল ব্যস্ততার মাঝেও তারা আপনার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা এবং যত্ন বজায় রাখতে বেশ পটু।

এই পেশার মানুষের চালিকাশক্তি হলো কাজের প্রতি তীব্র অনুরাগ, কেবল অর্থ বা ব্যাংক ব্যালেন্স নয়। যদি এটি শুধুই অর্থ তৈরির বিষয় হতো, তবে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় থাকতেন না। তারা হয়তো কোটি টাকা উপার্জন করতে পারেন না, কিন্তু তারা জীবন ও সময়কে মন থেকে উপভোগ করতে জানেন।

বিশ্বাস এবং সততা হলো অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য যা সাংবাদিকদের পেশাগত কারণেই বজায় রাখতে হয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য ‘রেকর্ডের বাইরে’ (অফ দ্য রেকর্ড) রাখা থেকে শুরু করে তারা অনেক কিছুই নিরাপদ রাখতে জানেন। তাই নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনার গোপনীয়তা তাদের কাছে সবসময় নিরাপদ থাকবে।

সাংবাদিকদের সাধারণ মানুষের তুচ্ছ বা পরনিন্দা-পরচর্চার বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর বিন্দুমাত্র সময় নেই। তারা আপনাকে এক মিলিয়ন প্রশ্ন দিয়ে অতিষ্ঠ করবে না কিংবা আপনার দিনের প্রতিটি মিনিট কীভাবে কাটল তার হিসাব চাইবে না। তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তাই আপনাকে পূর্ণ স্পেস দেবে এবং বিনিময়ে আপনার থেকেও একই আচরণ আশা করবে।

সাংবাদিক হওয়া মানেই এক নিঃশর্ত অধ্যবসায় দ্বারা ভারাক্রান্ত জীবন। তথ্যের উৎসের পেছনে দিনরাত দৌড়ানো কোনো সহজ কাজ নয়। তারা ঠিক জানে যে কোনো সম্পর্ক বা কাজ সঠিকভাবে টিকিয়ে রাখতে কী ধরণের ত্যাগ ও পরিশ্রম লাগে; এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রেও তারা একই দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করে।

সাংবাদিকদের ঝুলিতে সবসময় যেমন হাজারো মজার মজার গল্প থাকে, তেমনই তারা কিন্তু দারুণ মননশীল শ্রোতা। আপনার যেকোনো ছোটখাটো সমস্যা বা আবেগের কথা তারা অত্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং আপনার না বলা সামান্য ইঙ্গিত বা চোখের ভাষাও খুব দ্রুত ধরে ফেলতে পারদর্শী।

সাংবাদিকরা প্রয়োজনের সময়ে অন্যকে সাহায্য করার জন্য নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে সামনের মানুষটি সম্পূর্ণ অপরিচিত হলেও তাদের কোনো আপত্তি থাকে না। এটা বলাই যায় যে, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করা এই সাংবাদিকদের মন বা হৃদয়টা অনেক বড় হয়।

সাংবাদিকের পার্টনার হওয়ার একটি বড় সাইড সুবিধা হলো বিভিন্ন আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানে অফিশিয়াল আমন্ত্রণ পাওয়া। শহরের সেরা মেগা ইভেন্ট, ভিআইপি কনসার্ট কিংবা আন্তর্জাতিক খেলাধুলার টিকিট জোগাড় করা তাদের জন্য এক চুটকির বিষয়। তাদের হাত ধরে আপনার সাধারণ জীবনটাও হয়ে উঠবে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও দারুণ অভিজ্ঞতায় পূর্ণ।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন