ইরান যুদ্ধে ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ইউরোপের ওপর চটল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধে ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ইউরোপের ওপর চটল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করে হামলা চালানোর অনুমতি না দেওয়ায় ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপের কিছু দেশের এই ভূমিকাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মিত্রদের এমন সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে জোটের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান ও কার্যকারিতা নিয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি বড় ধরনের সামরিক পর্যালোচনা (রিভিউ) শুরুর কথা জানান।

ন্যাটো কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে পেন্টাগন প্রধান হেগসেথ বলেন, ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে অপারেশনের সময় কিছু ইউরোপীয় মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুবিধা দেয়নি, যা নিয়ে আসলে কোনো প্রশ্নই ওঠার কথা ছিল না। এই মিত্ররা আমাদের সন্তানদের (মার্কিন সেনা) জীবনকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই আচরণের পর এখন ইউরোপে মার্কিন সেনাদের থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত পর্যালোচনা করা হবে। এটি এমন একটি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে যেখানে কিছু দেশ নিশ্চিতভাবে ব্যর্থ হবে, আর কিছু দেশ খুব সহজেই পার পেয়ে যাবে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা ও নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান এবং শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে ইউরোপের মনোযোগ ছিল জেন্ডার সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট কাটছাঁটের দিকে। ফলে ইউরোপের সীমান্তগুলো এখন উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমেরিকার মানুষ আর ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য নিজেদের পকেট থেকে অর্থ দেবে না। যদি বাকি দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট না বাড়ায়, তবে ন্যাটোর ফান্ডে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব অনুদান কমিয়ে দেবে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই ৩২ দেশের জোটকে একটি কট্টর সামরিক জোট বা 'ন্যাটো ৩.০'-তে রূপান্তর করতে চায়, যেখানে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের জবাবে ন্যাটোর নবনিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক মার্ক রুটে জানান, ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে। গত এক বছরেই ইউরোপ ও কানাডা সামরিক খাতে আগের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে, যা প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের সমান।

মন্তব্য করুন