ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় নিহত ৮
অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নতুন করে চালানো ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং শিশুসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। সোমবার ভোরের দিকে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে একটি বহুতল ভবনে রাশিয়ার গাইডেড বোমাহামলায় শিশুসহ অন্তত ২২ জন গুরুতর আহত হন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত এক সপ্তাহেই রাশিয়া ইউক্রেনের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ২,২০০টিরও বেশি অ্যাটাক ড্রোন, ১,৬৩০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য গ্লাইড বোমা এবং ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেকভ তাঁর অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, সোমবার ভোরের দিকে রাশিয়ার একটি গাইডেড বোমা সরাসরি একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যার ফলে ভবনটির দুটি তলা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে অন্তত ছয়টি শিশু রয়েছে।
এর আগে রোববার দিনভর পরিচালিত হামলায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরের একটি শিশু কেন্দ্রে বিমান হামলায় ১৬ বছরের এক কিশোরীসহ তিনজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওদেসায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন, হোটেল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও শস্যগুদামে রাশিয়ার হামলায় এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চলে অবিরাম ড্রোন হামলায় নারী ও কিশোর-কিশোরীসহ একাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিয়েভ নগর প্রশাসন জানিয়েছে, এতে অন্তত ১২টি বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক গুদামসহ ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের বহুল ব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, "মস্কো যদি সত্যিই যুদ্ধ থামানোর বা উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আন্তরিক হতো, তবে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের ওপর এভাবে শত শত শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চালাত না।"
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা কিয়েভে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘কিয়েভস্টার’-এর একটি ডেটা সেন্টার এবং ‘ওমেগা টেলিকম’-এর স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালিয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মস্কো তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যাবে। এর মধ্যেই ক্রাসনোদার অঞ্চলের ‘পাভলোভস্কায়া’ নামক একটি রুশ তেল ডিপোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ থমকে থাকায় দুই দেশের বেসামরিক জনগণের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।