যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বৈরথ: বিশ্বজুড়ে কি আবারও ফিরছে পরমাণু পরীক্ষার যুগ?

প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বৈরথ: বিশ্বজুড়ে কি আবারও ফিরছে পরমাণু পরীক্ষার যুগ?

অনলাইন ডেস্ক: গোপন পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা এবং দ্রুত অস্ত্রাগার সম্প্রসারণের অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম রূপ নিয়েছে। নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির মেয়াদ শেষের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের দীর্ঘ ৩৬ বছরের পুরোনো পারমাণবিক অস্ত্রাগারের কার্যকারিতা পরীক্ষার দাবি জোরদার হওয়ায় দুই শক্তিধর দেশই কি আবার নতুন করে পারমাণবিক পরীক্ষার যুগে প্রবেশ করছে—এমন প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের ‘কনফারেন্স অন ডিসআর্মামেন্ট’-এ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়, চীন তাদের লোপ নুর কেন্দ্রে বৈশ্বিক ভূকম্পন যন্ত্র এড়াতে ‘ডিকাপলিং’ পদ্ধতিতে গোপনে একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে চীনের পিংটং, জিতং, মিয়ানইয়াং ও জিউকুয়ানে বিপুল আধুনিক পারমাণবিক অবকাঠামো ও লেজার ফিউশন প্রযুক্তির প্রসারের প্রমাণের কথা বলা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চীন যদি এই অনিয়ম অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও সমপরিমাণ পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করবে। উল্লেখ্য, চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ১৫০০-এ পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চীন বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা তাদের নেই এবং তারা তাদের ‘আগে আঘাত নয়’ (No First Use) নীতিতেই অটল রয়েছে।

তবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও গবেষণা সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবি ও কৌশল সম্পর্কে ভিন্ন মত প্রকাশ করছে। ২০২৬ সালের আগস্টে জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স (এসডব্লিউপি)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কারিগরি তথ্যের অভাব ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে মার্কিন অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়। মূলত চীনকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় (Trilateral Arms Control) যুক্ত করতে ওয়াশিংটন এই চাপ সৃষ্টি করছে বলে ধারণা আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ)।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ শুরু করার সুপারিশ করা হচ্ছে। কারণ ওয়াশিংটনের বর্তমান পারমাণবিক অস্ত্রের গড় বয়স প্রায় ৩৬ বছর এবং জিএও (GAO)-এর তথ্য অনুযায়ী সময়মতো প্লুটোনিয়াম পিটের গুণগত মান পরীক্ষা না করলে কৌশলগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।

তবে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী সিগফ্রিড হেকার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই তিন দশকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পরীক্ষা শুরু করে, তবে তা মূলত চীন ও রাশিয়াকেই বেশি সুবিধা দেবে। তারা নিজেদের নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক মিসাইলের আধুনিকীকরণ দ্রুত শেষ করার সুযোগ পাবে এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক অসংকোচন চুক্তি ভেঙে পড়ে এক অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সূত্রপাত ঘটাবে।

মন্তব্য করুন