ঋণ শোধে অযথা বিলম্ব নিয়ে মহানবী (সা.)-এর সতর্কবার্তা

প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ণ
ঋণ শোধে অযথা বিলম্ব নিয়ে মহানবী (সা.)-এর সতর্কবার্তা

 ইসলামী ডেস্ক: ইসলামে অযথা ঋণ করাকে উৎসাহিত করা না হলেও দৈনন্দিন জীবনের নানা বৈধ ও জরুরি প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা চরম পারিবারিক সংকটে ঋণ মানুষকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়। তবে এই ঋণের সঙ্গে ‘বান্দার হক’ এবং আমানতদারিতার অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত থাকায় তা গ্রহণে এবং যথাসময়ে তা পরিশোধে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনের দীর্ঘতম আয়াত সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াতে ঋণ লেনদেনের সময় তা নিখুঁতভাবে লিখে রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা অস্বীকারের কারণে বিবাদের সৃষ্টি না হয়।

ঋণ পরিশোধে সময়ানুবর্তিতার বিষয়ে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সহিহ বুখারির ২৪০০ নম্বর হাদিসে তিনি এরশাদ করেন, "ধনী (সামর্থ্যবান) ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে বিলম্ব করা জুলুম।"

হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, অর্থ ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পাওনাদারকে অযথা ঘোরানো, সময়ক্ষেপণ করা বা কালক্ষেপণ করা ইসলামি বিধানে নিছক কোনো শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ নয়, বরং তা সরাসরি ‘জুলুম’ হিসেবে গণ্য।

তবে বিপরীতপক্ষে, ঋণগ্রহীতা যদি বাস্তবিকই চরম আর্থিক কষ্টে পড়ে যান, সে ক্ষেত্রে পাওনাদারকে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। সুরা বাকারার ২৮০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "আর যদি সে অসচ্ছল হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে সময় দেওয়া উচিত। আর যদি দান করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম।"

ঋণ পরিশোধের নিয়তের ওপর আল্লাহর রহমত নির্ভর করে উল্লেখ করে মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পরিশোধের সৎ নিয়তে ঋণ নেয়, আল্লাহ তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে আত্মসাৎ বা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নেয়, তাকে আল্লাহ ধ্বংস করেন (বুখারী ২৩৮৭)।

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় জীবন দেওয়া শহীদের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হলেও ঋণের দায় মাফ হয় না (মুসলিম ৪৭৭৭)। এমনকি ঋণ শোধ না করা পর্যন্ত মুমিনের রুহ ঝুলন্ত বা বন্ধক অবস্থায় থাকে বলে তিরমিজি শরিফের হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত লেনদেনে আমানতদারিতা বজায় রাখা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা।

মন্তব্য করুন