ফিলিপাইনে জোড়া ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় নিহত ২৩, বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ

প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ণ
ফিলিপাইনে জোড়া ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় নিহত ২৩, বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ
ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা।

অনলাইন ডেস্ক: ফিলিপাইনে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র বৃষ্টিপাত এবং দুটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ‘লুইস’ (Luis) ও ‘মায়মায়’ (Maymay)-এর জোড়া আঘাতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে স্থানীয় জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল (এনডিআরআরএমসি) থেকে প্রকাশিত এক সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘূর্ণিঝড় দুটির সরাসরি প্রভাবে দেশের বিভিন্ন দ্বীপাঞ্চলে বিরতিহীন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে প্রধান দ্বীপ লুজন (Luzon) এবং ভিসায়াস (Visayas)-এর উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত করায় শত শত পরিবারকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান প্রধান সড়ক।

এনডিআরআরএমসি জানিয়েছে, ফিলিপাইন সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে। জাতীয় ত্রাণ সংস্থাগুলোর সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি খাদ্যসামগ্রী, সুপেয় পানি এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

দুর্যোগে দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশের অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক, জাতীয় সেতু ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও কৃষিভিত্তিক জীবিকা সম্পূর্ণ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব নিরূপণে স্থানীয় মাঠপর্যায়ে বিশেষ তদন্ত দল কাজ করে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের সংকেত উল্লেখ করে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী আরও কয়েক দিন অঞ্চলগুলোতে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনায় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন